বঙ্গবন্ধু নারী মুক্তিযোদ্ধা মীরা রানী সরকারের পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, ‘শাবাশ বেটি'


সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।।

বঙ্গবন্ধু নারী মুক্তিযোদ্ধা মীরা রানী সরকারের পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, ‘শাবাশ বেটি'৷ সে সময় তাঁকে এক হাজার টাকা পুরস্কারও দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

বৃহস্পতিবার পরলোক গমন করেছেন মীরা রানী। বেঁচে থাকতে একবার তার সাক্ষাত পেয়েছিলাম ২০০১ সালে। তিনি বলেছিলেন-বনগাঁর কালু বাবুর বাড়িতে আওয়ামী লীগের অফিস ছিল৷ সেখানে গিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ইচ্ছার কথা বলেন ৷

কিন্তু মেয়ে তারপর বয়স কম হওয়ায় কেউ তাঁকে মুক্তিযুদ্ধে নিতে চাননি।’ তিনি বলেন-আমি অফিসে গিয়ে খুব কান্নাকাটি করেছি ৷ তখন তারা জিজ্ঞেস করল যে, তুমি কি পারবে? এই গোলাগুলির মধ্যে তুমি কি কাজ করতে পারবে? আমি বলেছিলাম, হ্যাঁ আমি পারবো৷ আমার বুকে সেটুকু বল আছে৷'

মীরা রানী জানান, একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁদের শিবিরে যান৷ তিনি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন৷ তাঁর কাজের প্রশংসা করেন এবং উৎসাহ দেন ৷ এছাড়া তাঁকে একটি প্রশংসা পত্রও দেন ইন্দিরা গান্ধী।

বনগাঁর টালিখোলা মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন তিনি ৷ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নড়াইলের মতিউর রহমান তাঁদের কমান্ডার ছিলেন ৷ পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতা জাদুঘরের পেছনে ১২ দিন মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন ৷

এরপর তাঁকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জোগানোর কাজ দেওয়া হয় ৷ তিনি ভারতের হেলাঞ্চা, বাগদা, গোপালনগর, চাঁনপাড়া মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য নানাভাবে সাহস জুগিয়েছেন৷ পাশাপাশি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা শুশ্রূষা করেছেন৷ ঝিনাইদহ ও যশোরের বিভিন্ন শিবিরেও তিনি চিকিৎসা সেবায় সহযোগিতা করেছেন৷

নড়াইল জেলার পাইকড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন মুক্তিযোদ্ধা মীরা রানী সরকার৷ পিতা রসিক লাল এবং মা তপি বালা ৷

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় নবম শ্রেণীর ছাত্রী ৷ স্বাধীনতার দুই বছর পর পূর্ব পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা পশুপতি সরকারের সঙ্গে বিয়ে হয় মীরা রানীর ৷ বসবাস করতেন যশোর উপশহরে। শেষ বয়সে তাঁর শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায় ৷ টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসক দেখাতে পারেননি এই মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর আত্ত্বার শান্তি কামনা করি।

Post a Comment

0 Comments